Tuesday, 6 July 2021

আজ থেকে কথা বলবো


 


আজ থেকে কথা বলবো
বহ্নি শিখা

সৌম্যর স্কুল বন্ধু জমজ বহ্নি আর জাহ্নবী,জাহ্নবী তার দাদার বউ হয়ে এবাড়িতে এসেছে। একই ক্লাসে পড়তো বলে নাম ধরে ডাকার অভ্যেস যায়নি।
সৌম্য বলছে,জাহ্নবী একটা বিষয় লক্ষ্য করছি, তুমি বুঝতে পারছো কি? আমি কি বলতে চাইছি?
---হুম,
কি? বলো।
--- কিছু একটা তো বটেই। তবে আমি বলবো না। তুমি বলো,কি জানতে চাও।
--ব্রহ্ম' তোমার সাথে কথা বলে না?
- না।
তুমিও বলো না?
---আমাকে তো বলতেই হবে।
এ পরিস্থিতি কেনো? কি হয়েছিলো?
---সব কথা সহজভাবে নিতে পারিনি তাই।
কি কথা জানতে পারি?
--- লুকোনোর কিছু নেই। তবে পুরোনো কাসুন্দি ঘাটতে চাই না।
কিন্তু তোমার বলতে অসুবিধা কোথায়? আমি তো আর কাউকে বলে কয়ে বেড়াচ্ছি না।
---ব্রহ্ম আর তোমাতে কোন তফাৎ দেখি না। অন্তত আমার কাছে নেই।
তুমি কি ব্রহ্ম'র সাথে আমাকে তুলনা করছো?
---বাধ্য হয়েই। করছি।
কারণ জানতে পারি?
--- নিজেকে জিজ্ঞেস করো।
হুম, তা না হয় করলাম। কিন্তু ইংগিত দাও কিছু একটা।
--- আধাযুগ পরে এতো কিছু জানতে চাইছো কেনো? এর আগে কোন খোঁজ নাওনি তো?
এ বিষয়ে পরে কথা বলবো। ব্রহ্ম কোথায়?
--- ওর ঘরে।
কি করছে?
--- জানিনা, হয়তো লিখছে।
সাহিত্য চর্চা করে না কি?
--- হয়তো করে।
তুমি জানো না?
--- করে বলেই আগে জানতাম। এখন জানিনা।
তুমি কি ফেসবুক ফ্রেন্ড নও?
---হ্যাঁ,তবে একটা।
ফেইক আইডি আছে না কি?
---আজকাল সবারই ফেইক আইডি থাকে তা তো জানোই। কারোর একটা,কারোর একের অধিক।
ঠিক আছে। আমি একটু বেরোব।
ওকেও নিয়ে যাবো।
নির্মল সৌম্য ব্রহ্ম এদের তিন ভাইয়ের মধ্যে নির্মল সবার বড়। নির্মল এস এস সি পাশ করার পর অজ্ঞাত কারনে নিখোঁজ ওদের বাবা বিমল সেন। উপজেলা শহরের বড় ওষুধের দোকানের মালিক।
অনেক খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। ওদের মা মারা গেছে ক্যান্সারে। দোকানটিই ছিলো ভরসা। শেষমেশ সেটিও মা'য়ের চিকিৎসায় শেষ। বাড়িভিটা বলতে দুটো ঘরই সম্বল।
নির্মলকে সবাই নিমু ব'লে চেনে। অনেক বলে কয়ে নিমু একটা স্কুলে চাকরির বন্দোবস্ত করেছিলো স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান কে ধরে। সেই থেকে নিমু ছোট ভাই দুটো কে বুকে আগলে রেখেছে। বুঝতে দেয়নি বাবার অনুপস্থিতি। নিজে পড়তে পারেনি। ভাইদের পড়াশোনায় যাতে ক্ষতি না হয় সবসময় সে চেষ্টাই করে গেছে।
সৌম্য দাদার মান রেখেছে। স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা শেষ করেছে। সে জন্য নিমুকে অবশ্য বাড়িটা বন্ধক দিতে হয়েছে।
দু'রুমের ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে নিমু আর ব্রহ্ম।
জানতো না তাদের বাড়িটি বন্ধক দিয়েছে দাদা। আজই জানলো ব্রহ্ম'র কাছে।
ব্রহ্ম বাড়িটা ছেড়ে যেতে চাইছিল না,এখানে বাবা মা'র স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিন্তু নিরুপায নিমু। ব্রহ্মকে বলেছিল টাকা হলে আমরা আবার বাড়িটা ফিরিয়ে আনব।
ব্রহ্মকে সাথে নিয়ে বাড়িটা দেখে এলো সৌম্য। হুহু করে কেঁদে ওঠেছিল বুকের ভিতর। মা-
বাবার স্মৃতি প্রতিটি বালিকণায়৷
আম,জাম,কাঁঠাল পেয়ারা, নারকেল সুপুরি আতা গাছগুলো সব আগের মতোই আছে।
ওদের দেখে যেন নড়ে ওঠে প্রতিটি গাছ। স্পর্শ পেয়ে তৃপ্তি পায় উভয়েই।
অকৃত্রিম ভালোলাগা জড়িয়ে স্নেহ ভালোবাসার বন্ধনে দোলে ওঠতে লাগলো ওরা প্রকৃতির মায়ায়।
এই বাড়িটা ঠিক রেখে,এর পাশের জায়গাতে বহুতল বিল্ডিং তুলবো যাতে ভাড়া খাঁটিয়ে থাকা যায়।
কি বলিস ব্রহ্ম?
--- তাহলে তো খুবই ভালো।
ঠিক করেছি আজই দাদাকে বলবো ছাড়িয়ে নিতে।
ব্রহ্ম উৎফুল্ল স্বরে বলল, বৌদি তোমাকে কিছু বলেছে?
--- কই? না তো? কিছু বলার ছিলো কি?
--- না--,
জাহ্নবীর সাথে কথা বলতে দেখিনি তোকে,কিছু হয়েছে না কি? কিছু বলেছে?
--- না,আমি বলিনি এতোদিন।
আজ থেকে বলবো। তুমি বাড়িটি ফিরিয়ে দেবে তাই।
সমাপ্ত


2 comments:

  1. জীবনে রাগ-অভিমান চিরস্থায়ী হতে পারে না। আজ আড়ি কাল ভাব এর পালা চলতেই থাকে। বর্তমান গল্প, আজ থেকে কথা বলব, পড়ে ভালো লাগলো।

    ReplyDelete
  2. সাবিত্রী দাস9 July 2021 at 21:41

    খুব ভালো লেখা, শুভেচ্ছা রইলো

    ReplyDelete

অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে

  অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে-- মানুষের জীবন থেকে টুকরো টুকরো করে সাজিয়ে বোধহয় তৈরি হয় গল্প। অবশ্য শুধু মানুষকে নিয়ে কেন, প্...