Showing posts with label জয়া গোস্বামী. Show all posts
Showing posts with label জয়া গোস্বামী. Show all posts

Sunday, 4 July 2021

বিদায়


 




বিদায়

জয়া গোস্বামী

সে দিনের কথা ভুলতে গেলে চোখের জলে ভাসে বুবু।আমাদের যেতে একটু দেরী হয়েছিল সারাদিন বৃষ্টির জন্য ,সে ভাবে কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না কোন রকম একটা ট্যাক্সি যোগাড় করে যখন গিয়ে পৌঁছলাম তখন সব শেষ বলতে গেলে।বুবুর কাছে গেলাম ভাষাই ছিলনা কিছু বলার। ও শুধুই কাঁদছে আর আর্তনাদ করে বলছে কটা টাকার জন্য আমার স্বামীকে ওরা আই সি ইউ তে কত দেরী করে নিয়ে গেলো ।আমার উপর করুণা করেনি আমি ওদের পায়ে ধরে ছিলাম দিদি শুনতে চায়নি তখন টাকার কথা বলতে সবাই ব্যস্ত। বাড়ির লোক আসছে কর্ণপাত করেনি। এদিকে ওর বুকের ব্যথা খুব বেড়েই চলেছে।আমি কাঁদছি দেখে ইশারায় চুপ করতে বলতে লাগলো ওটাই রাহুলের সাথে শেষ দেখা বুবুর।কটা টাকার জন্য বেঘোরে চলে যেতে হল পৃথিবীর বুক ছেড়ে। আজ অনেক কষ্টে বুবুকে বাড়ির বাইরে বার করা হলো কিন্তু ওর চোখ কাকে খুঁজে চলেছে দেখে খুব খারাপ লাগছিল। ওকে বুঝিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে কি ভাবে আনা যায় দিদি হয়ে চিন্তা করতে লাগলাম। অনেক বুঝিয়ে বাড়ির সবার সামনে আনা হল। কিন্ত সেদিন বাঁধলো গণ্ডগোল, বুবুর


শ্বশুরের নির্দেশে ওকে রাহুলের বাড়ি চলে যেতে হবে।সেদিন ও নীরব হয়ে সবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুই বলার ক্ষমতা হারিয়েছে ।টোকা শ্যাওলার মত ভেসে বেড়াচ্ছে। আমি দিদি হয়ে অনেক বোঝালাম। সব ভেবে এগোবে তোমার সব কিছুই নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

সেদিন ছোট বোনের মুখের দিকে তাকালাম একদিনে কত শরীরের পরিবর্তন ঘটেছে ।ও কিছু একটা বলতে গিয়েও চেপে যাচ্ছে বলতে পারছে না ।সেদিন রাতে নিজের কাছে শুতে দিলাম স্বামীর আপত্তি সত্ত্বেও। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে বুবু ও আমার বুকের উপর পরে হাউ হাউ করে কাঁদলো বলতে লাগলো দিদি তোর কাজের লোক হয়ে থাকবো কিন্ত ওখানে পাঠাসনা কেন?তখন ও যা বললো আমার মাটির থেকে পা সরে গেল কি বলিস ও চুপ করে রইলো মুখে আর কথা না ।ও বলতে লাগলো রাহুলও বিশ্বাস করেনি অনেক বলার পরে বুঝেছিলো। ওর পাগল ভাই শয়তান একটা বাবা মা সব বোঝে কিন্তু কিছু বলে না এখন রাহুল নেই সুবিধা হয়েছে ওদের। পাগলের কাছে নীরবে আমাকে থাকতে হবে ।

পরের দিন সকাল হতেই ওকে চলে যেতে হবে তার তোড়জোড় করতে লাগল ওর জামাইবাবু । ওর কথা শুনতেই চাইলোনা কেউ। কিন্ত সকালে হঠাৎ করে একার আবির্ভাব অবাক হল কিছুক্ষন। আর মনে মনে বলতে লাগল সব অদৃষ্টের লিখন। এক গাল হাসি ভরা মুখে দাঁড়িয়ে ওর সামনে ।দিদি চমকে গিয়েছিল একি গৌতম তুমি এই অসময়ে।কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পরে একটাই কথা বলেছিল হুম। বুবুর ভালোনাম অন্তরা ওর এই অবস্থার জন্য আজ আমি দায়ি।শেষ টা আমি রক্ষা করবো ওকে তোমাদের আপত্তি আছে দিদি

দিদি কিছুক্ষন চুপ থেকে বুবুর দিকে আঙুল তুলেছিলেন। বুবু কি করবে বুঝতে পারছে না এই অসময় কার কাছে থাকবে জামাইবাবু ও আস্তানা দিচ্ছেন না ।সব ভেবে বুবু ঘাড় নেড়েছিল যাই হোক এক কালে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলো দুজনে মিলে কিন্তু বড়দের চাপে বিয়েটা শেষে করতে হয়েছিল।



গৌতম যদি আপত্তি না থাকে তবে এই অসময় ওর থাকবে কেন। স্বপ্ন আজ ওর ও দেখার অধিকার আছে সব বন্ধন ছিন্ন করে ওরা ওদের জীবনে ফিরে যেতে চায়।এক বার বুবু ফিস ফিস করে বলতে লাগল রাহুল ক্ষমা করে দিও আমি আজ খুব অসহায় বিদায় রাহুল।


অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে

  অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে-- মানুষের জীবন থেকে টুকরো টুকরো করে সাজিয়ে বোধহয় তৈরি হয় গল্প। অবশ্য শুধু মানুষকে নিয়ে কেন, প্...