Wednesday, 7 July 2021

অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে

 


অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে--

মানুষের জীবন থেকে টুকরো টুকরো করে সাজিয়ে বোধহয় তৈরি হয় গল্প। অবশ্য শুধু মানুষকে নিয়ে কেন, প্রকৃতির মাঝে যা কিছু আছে এই আকাশ-বাতাস, মাটি-জল, রোদ-ছায়া, আলো-অন্ধকার সব, সব কিছু মিলিয়েই তৈরি হয় গল্প। গল্পকে ছোট, সংক্ষিপ্ত করে, ক্ষুদ্রকায় করে তৈরি হয় অণুগল্প।

গল্প প্রবাহের মাঝেই আবার অনেক গল্প হারিয়ে যায়। পাঠকদের ভাবনার সুযোগ করে দিয়ে গল্পের ঘটনাক্রমকে কখনও কখনও পথ হারাতে দেখা যায়। অনেক ভাবনার সুযোগ রেখে গল্প শেষপথে শেষ হয়ে যায়। তা বলে এধরণের গল্পকে অসম্পূর্ণ বলা যাবে না।

ঘটনাস্রোত নদীর মতই প্রবহমান। এখানেও সুখ-দুঃখের ঢেউ ওঠে। ঘটনা আবর্তে জোয়ার ভাটা চলে। কখনো আবার নদী ফুলেফেঁপে নিজের দু'কূল ভাসিয়ে এগিয়ে চলে। মানুষের জীবনও বুঝি অনেকটা সে রকম। আতিশয্য, মনের অহংকার মানুষকে সংজ্ঞাহীন করে তোলে। কখনও নদী ও তার হিংস্র আস্ফালন মানব সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। আমরাও আমাদের বর্তমান সভ্যতাকে পার করে ক্রমশ এগিয়ে চলি আগামীর অভ্যুত্থানের দিকে। জীবনের স্থির অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে মানুষের মননশক্তি এগিয়ে যায়। মন বড় অস্থির, সে সব সময় কিছু না কিছু নিয়ে থাকতে চায়। কর্মকে ধর্ম মেনে নিয়ে সৃষ্টিকে আরো সুন্দর সহজ সুলভ করে তুলতে অনুশীলন চলেছে আবহমানকাল ধরে। অবসর সময়ে জীবন অনেকটা শান্ত-শুদ্ধশীল হয়ে ওঠে, সাহিত্যচর্চার নিবেদনে তথা বিনোদনে এই সময়টাই বুঝি হয়ে ওঠে প্রশস্ত এক সময়।

আসলে আমাদের জীবনটা তো একটা বইয়ের মত। বন্দী মলাটের দেয়ালে ঘেরা। মানুষটাকে তার ওপরের চেহারায় কতটুকুই বা আমরা খুঁজে পাই ? তাকে চেনা জানার আকাঙ্ক্ষায় মলাট সরিয়ে তাকে পড়ে নিতে হয়। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে সৃষ্টির প্রেরণা থেকে যায়। সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় গ্রীষ্ম দাবদাহে তা তো শুকিয়ে যেতেই পারে। তবু কিন্তু সে মরে যায় না, তার মধ্যে সৃষ্টির শেষ অংকুরটুকু বেঁচেই থাকে, কোন গভীরে, গহনে। এমনি সুপ্ত প্রবাহমান ভাবনাটাকে একটু উস্কে দেবার চেষ্টা করতে পারলে হয়ত সৃষ্টি আবার আলোড়িত হয়ে উঠতে পারে। সাহিত্যধারাকে উজ্জীবিত করে তুলতে আমাদের জনগনমনর জাগরণ যে অনিবার্য। সভ্যতাকে উন্নততর করে দিকদর্শন করতে পারে আমাদের এই সাহিত্য উচ্চারণ, সহস্র পত্র পত্রিকার এক দর্পণ। আজ এ পর্যন্ত--নিবেদন ইতি: তাপসকিরণ রায়, সম্পাদক, বর্ণালোক।

সহঃসম্পাককের কলমে:

মানুষের মানসিক অবস্থার যখন অবনতি হয় তখন বোধহয় কোন কিছুই ভালো লাগে না। কিন্তু আমার এই প্রিয় পত্রিকার ডাক এলে, বিশেষ করে আমার প্রিয় দাদার ডাক অমান্য করতে পারি না। কিছু না কিছু মনে হয় লিখেদি, দাদার তো বলেছে। হয় তো এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পাবো। আপনারা দিনের পর দিন এতো লেখা দিচ্ছেন ভালো লাগছে। পত্রিকাকে আরও ভালোবাসুন।
--সমিত কর্মকার, সহ-সম্পাদক, বর্ণালোক।

সহ সম্পাদকের কলমে--

ভালো লাগার বিষয় বলে আনন্দের জন্য দুচারটে লেখালেখির চেষ্টা করি বৈ তো নয়! তাই কোন বিষয়ে বেশ গুছিয়ে বাগিয়ে কিছু বলা কিংবা লেখার মতো বিদ্যে বা বুদ্ধি কোনটাই আমার নেই। যদিও আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধি দিয়ে যতটুকু বুঝেছি সেটুকু সম্বল করেই অণুগল্প নিয়ে আজ নাহয় দু চারটে কথা বলা যাক । প্রথমতঃ কথাটা হলো অণুগল্প,অনুগল্প নয়।

ক্ষুদ্র আকারের গল্প,যদিও গল্পের স্বাদ থাকবে পুরো মাত্রায়। অণুগল্প সম্পর্কিত নানা নিয়মের কথা শুনেছি। অন্যরাও জানেন, বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা বাতুলতা মাত্র! সে চেষ্টাও করছি না। শুধুমাত্র দুচারটে কথা অণুগল্প সম্পর্কে বলতে ইচ্ছে হলো বলেই বলছি। একটি নিটোল গল্পের আস্বাদন পেতে হবে অথচ সেটি আকারে গল্পের চেয়ে আকৃতিতে অনেকটাই ক্ষুদ্র।

বিন্দুর মধ্যে সিন্ধু দর্শন করানোর চেষ্টাটাই লেখকের আসল লক্ষ্য। পাঠক তো আর অণুগল্পের ব্যাকরণ জানতে চান না, চান সাহিত্যের রসাস্বাদন করতে। ঠিক যেন ঘাসের ডগায় এক ফোঁটা শিশির, আলোয় ঝলমল করছে।
হঠাৎ করেই শুরু হয়ে হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়া অণুগল্পের আরেকটি ধরণ। মনে হতেই পারে যেন ঝপাং করে লাফ দিয়ে চলে এলো বিষয়ে।
ঘটনার ঘনঘটা নাই,নাই অহেতুক বিন্যাসের আয়োজন। অপ্রয়োজনীয় অলংকার বর্জিত ছিমছাম এক একটি ব্যক্তিত্বের মতো যেন অণুগল্পগুলি।--সাবিত্রী দাস, সহ সম্পাদক, বর্ণালোক।

No comments:

Post a Comment

অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে

  অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে-- মানুষের জীবন থেকে টুকরো টুকরো করে সাজিয়ে বোধহয় তৈরি হয় গল্প। অবশ্য শুধু মানুষকে নিয়ে কেন, প্...