
প্রেরণা বড়াল
জ্বলছে দাউ দাউ করে চিতা। গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল। কিন্ত কেন! বুঝতে পারছে না শিখা। শোকে -দুঃখে- কষ্টে বা মুক্তির আনন্দে -- কিসের জন্য ! কিসের জন্য তার চোখ থেকে জল পড়ছে। সে কি ভলবাসত মানুষটিকে? তেরোটা বসন্ত কটিয়েছে দুজনে একসাথে কিন্ত ভালবাসার কথা কোন দিন হয়েছিল দুজনার মাঝে--মনে পড়ে না শিখার। লম্বা ফর্সা একটা দুর্দান্ত লোক। তার কথামত চললে খুব ভাল না হলে বেদম মার। এক দিন শিখাকে পাশের বাড়ির কাকি বলেছিল," যে পুরুষরা অন্য পুরুষদের ভয় পায়, যারা বাইরে কিছুই বলতে পারে না, ঘরে এসে বউদের মেরে মনের ঝাল মেটায়।"
বিবাহের প্রথম বছরের মধ্যেই তাদের একটা পুত্র সন্তান হয়,কিন্ত সে ছিল মৃত। তার পর তাদের কোন সন্তান হয় নাই।
শাশুড়ি মা দুই দেওর আর ওরা দুজন। পরে ধীরে ধীরে দেওরেরা বিয়ে সাদি করে নিজেদের সংসার গুছিয়ে আলাদা হয়ে যায়। রয়ে যায় তারা তিনজন। সংসার সচ্ছল ছিল। কিন্ত কেন জানি শিখার মনে হত তারা তিন জন তিন পুরীর লোক।
বিশেষ করে ওদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তেমন কোন মিল ছিল না। না আচার ব্যবহারে, না কথা বার্তায়, না স্বভাবে। সারা দিন খাটুনির পর কশ্চিৎ সে শান্তিতে ঘুমাতে পারত।
রাত হলেই সে নিজেকে গুটিয়ে নিতে চাইত কিন্ত পারত না। রাতের অন্ধকারে যেন একটা ক্ষুধার্থ সিংহ ঝাঁপিয়ে পড়ত। ক্ষত বিক্ষত হয়ে যেত সে। তার সেই লালায়িত রূপে সে নিথর হয়ে যেত। এ যেন চিরাচরিত শিকার আর শিকারীর খেলা।
স্বামীর চাকরির বিষয়ে ওর তেমন কোন জ্ঞান ছিল না। শুধুমাত্র পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কাজ করত এবং কোন একটা ভাল পোস্টে ছিল এই টুকুই জানত। সে কোন কথা শেয়ার করত না ওর সাথে। হয়ত তার ধারনা ছিল ওর বোধ বোধশক্তি কম।
ভোজন প্রিয় লোক ছিল। খাওয়া শোয়া ছাড়া কিছুই ভাল বাসত না সে। মাঝে মাঝেই বলত "মানুষ কেন কষ্ট করে বাইরে ঘুরতে যায় কে জানে, ঘরে থাক মস্ত খাওদাও শোও ।" টিভিতে ম্যাচ দেখতে- পিকচার দেখতে খুব ভালবাসত।
জীবনে তেমন একটা বড় অসুখ কোন দিনও হয় নাই তার। হঠাৎ বর্তমান (কোরোনা) ভাইরাসের সংক্রমণে মাত্র পনের দিনের মাথায় মানুষটি মারা গেল। এই কদিনে যেন নুতন করে আবিষ্কার করল শিখা তার স্বামীকে। একটা শিশু সুলভ প্রাণ। তেমনই সরলতা, ব্যাকুলতা, জিদ্দি। ওনার জেদের জন্যই প্রথম থেকে ডাক্তার দেখান হয়নি। যার ফল মৃত্যু।
কিন্তু কেন যে তার জন্য আজ ওর মনে এত কষ্ট হচ্ছে ও বুঝতে পারছে না। সত্যিই বুকটা একেবারে ভেঙ্গে যাচ্ছে যেন। খুব কষ্ট হচ্ছে বুকের ভেতর। বড় বড় ঢেউ তোলপাড় করে দিচ্ছে অন্তরটা। কিন্ত কেন--কেন? এইটাই কি ভালবাসা না অভ্যাস। বিশ্বকবির লেখা একটা লাইন শিখার মাথায় ঘুরছে "সখী, ভালবাসা কারে কয়"
সমাপ্ত
ভালোবাসার সংজ্ঞাটা বড় তার্কিক ও জটিল। লেখিকার ভালবাসা কারে কয় গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো।
ReplyDeleteভালোবাসার সংজ্ঞাটা বড় তার্কিক ও জটিল। লেখিকার ভালবাসা কারে কয়, গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো।
ReplyDelete