Sunday, 4 July 2021

আমার প্রেম




আমার প্রেম

ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়


আমার প্রথম প্রেমিকা লক্ষ্মী হারিয়ে গিয়েছিল আমার জন্যে আকন্দ ফুলের মালা আনতে। ঝোপের ভেতর থেকে আর সে বেরোয় নি। তখন আমি কৈশোর শেষ করে তারুণ্যের দরজায় উপনীত। চঞ্চল পায়ে এগোতে এগোতে আরও কিছু রুমেলা, তানিয়া, তনিমা বা সঞ্চিতার দেখা পেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের সঙ্গে প্রেম তেমন জমে ওঠে নি কলেজের কঠিন পড়াশোনার চাপে। ছটফটে তারুণ্য পেরিয়ে যৌবন এসেছিল পায়ে ছন্দের তাল আর মুখে হাসি নিয়ে। কত মধুশ্রী, মধুবন্তী, মধুমালা, মেঘমালা, অপরাজিতা, আহুজা, দময়ন্তী, কঙ্কনা আর রূপালীরা কল্পনায় আমার চুলে বিলি কেটেছে, নির্জন নদীতটে কী নিভৃত পার্কে বাহুডোরে বেঁধে সারা মুখে বুলিয়েছে মধুর চুম্বন তার কোনও হিসেব রাখি নি। হয়ত সার্থক প্রেমের ধর্মই হল হিসেব না রাখা। বেহিসেবী চাঞ্চল্য না থাকলে আর প্রেম কী? 

ধাক্কা খেলাম সর্বশেষ প্রেমে এসে। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত সে আমার কোলে মাথা রেখেছে। আমি তার সর্বাঙ্গে বুলিয়েছি আমার প্রেমের স্পর্শ। তারপরে ঘুমিয়ে পড়েছি আমি নিজেই। ভোরে উঠে একটু প্রেম করব দেবশ্রীর সঙ্গে ভেবেছি। আমার নায়কের হয়ে নাহয় আমিই করলাম তাতে দোষের কি? তাই খুঁজেছি –না, দেবশ্রীকে নয়। খুঁজেছি সামান্য একটা পাঁচ টাকা দামের কলমকে। কোথায় গেল? আমার তো মাথায় হাত। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ সামান্য দূরেই দেখি সে পড়ে আছে এক অভিমানিনীর মত।

--আর আমাকে কী দরকার? এই অর্ধশতকে তোমার নায়িকা তো শতক ছাড়িয়েছে? গল্পের নিশ্ছিদ্র প্রেমকুঞ্জে এতদিন তো দিব্বি প্রেম করেছ তাদের সঙ্গে। একমাত্র পাঠক ছাড়া বাকি সকলের কাছেই তো তারা ছিল অধরা। 

সপ্রেমে তাকে জড়িয়ে ধরেছি মুঠোর মধ্যে। আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা দিয়ে তাকে বলি, তুমি ছাড়া আমার যে চলে না গো একবিন্দু। তুমি যে আমার---



বিদায়


1 comment:

  1. ডাক্তার তরুণ চট্টোপাধ্যায় নিরলস লিখে যাচ্ছেন। ভালো লেখেন তিনি। বর্তমানে প্রকাশিত গল্পটিও আমার খুব ভালো লেগেছে।

    ReplyDelete

অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে

  অণুগল্প পত্রিকা বর্ণালোকের সম্পাদক কলমে-- মানুষের জীবন থেকে টুকরো টুকরো করে সাজিয়ে বোধহয় তৈরি হয় গল্প। অবশ্য শুধু মানুষকে নিয়ে কেন, প্...