বৃষ্টি ভেজা প্রেম
সাবিত্রী দাস
বৃষ্টিটা হবার আর সময় পেলো না!এখনই হতে হবে ! এতদিন পর দেখা ,কোথায় একটু আনন্দ করে ঘুরবে তা নয় অসময়ে বৃষ্টি এসে সব আনন্দ মাটি হতে চলেছে।
টুপুরের মনে আজ খুশীর জোয়ার।হবে নাই বা কেন! এত দিন পর আজ দেখা সন্তুর সঙ্গে।সন্তু ওর প্রেমিক গেছিল চাকরির ট্রেনিংয়ে ব্যাঙ্গালোর।ট্রেনিং চলাকালীন ছুটি নেওয়া অসম্ভব । একবছর পর ফিরেছে গতকাল রাতে । আজই দেখা করতে চাইলো। বলেছিল বিকেলের দিকে দুজনে একসাথে যাবে নদীর ধারে ঘুরতে, আর ঐ সঙ্গে একটু দূরে চণ্ডীতলায় গিয়ে প্রণাম করে আসবে একসাথে। টুপুর বাড়িতেই বলল আসতে। মা বাবা গেছে দিদির বাড়ি আসানসোল।
সন্তুর ট্রেনিং শেষ।এবার সে চাকরিতে জয়েন করবে।যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা সেরে নিতে চায় সন্তু।
জানলা দিয়ে বৃষ্টির ছাঁট এসে ভিজিয়ে দিচ্ছিল।সন্তু জানলাটা বন্ধ করে দেয়।দুজনে মুখোমুখি বসে। সন্তু টুপুরের হাত দুটো ধরে বলে-"এবার তাহলে বিয়ের ব্যবস্থা করতে হয়,আর যে দূরে থাকতে পারি না!"
টুপুর আর নিজেকে সামলাতে পারে না,চোখে জল এসে যায় তার।অশ্রু রুদ্ধ কন্ঠে বলে ওঠে- "পারছি না যে আমিও! আরএমন করে দূরে থাকতে রাজি নই গো।" দীর্ঘ অদর্শনের পর আজ দুটি প্রাণ এক হয়ে মিশে যেতে চাইছে পরস্পরের অনাবিল প্রেমের স্রোতে । রুক্ষ শুষ্ক ধরনীর পরে অকাল বৃষ্টির ধারায় ভিজে যাচ্ছে সবটুকু শুষ্কতা রুক্ষতা , ধুয়ে মুছে যাচ্ছে পৃথিবীর যত মলিনতা,আবিলতা!প্রেমের পরশে সিঞ্চিত হতে হতে টুপুরের মন আজ অনাস্বাদিত এক আনন্দে পরিপূর্ণ, মিলনের সৌরভে পুলকিত হৃদয় শিহরিত হয়ে উঠছে বারংবার।
বাইরে তখনও মুষল ধারায় বৃষ্টি ,সেই বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে মেঘের গর্জন আর বিদ্যুতের চমকানি!ভয়ে না আনন্দে কে জানে টুপুর মুখ লুকিয়েছে সন্তুর বুকে।সন্তুও পরম মমতায় দুহাতে ওকে জড়িয়ে ধরে আছে।
রুদ্ধ আবেগে থরথর করে কাঁপছিল টুপুর।আজ সন্তুর প্রেমের পরশে তার অবরুদ্ধ আবেগ বেরিয়ে আসতে চাইছে স্বতোৎসারিত নির্ঝরিনির মতো! সব বাঁধ ভেঙে গেছে তার।সন্তুর বুকে মুখ রেখে সেই থেকে কেঁদেই চলেছে মেয়েটা।

সাবিত্রী দাস এ পত্রিকার সহ-সম্পাদক। তিনি নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন।দেশ পত্রিকা থেকে শুরু করে অনেক নামিদামি পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান লেখাটিও চমৎকার। লেখিকাকে অনেক ধন্যবাদ।
ReplyDelete