সংসার যন্ত্রণা
শিখা মালিক
বাবা গত হওয়ার পর আর পড়াশোনা করা হয়নি নীরার,পড়াশোনা থামলো এম এস সি সেকেন্ড ইয়ারে। দুবেলা দু মুঠো ভাতের যোগাড় তার উপর দুই বোনের পড়াশোনা,অন্তরা বারো ক্লাস আর চৈতী মাধ্যমিক ।রোজ চাকরির জন্য বেড়িয়ে পরা- সারাদিন এখান ওখান ইন্টারভিউ ,খোঁজ খবর নেওয়া ,শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতে মা আলু সিদ্ধ ভাত দিয়ে বলে খাবি আয়।ক্ষুধার্ত নীরা হাত পা ধুয়ে তাই খেতে বসে আনন্দের সাথে,ছোট বোন চৈতী বলে দি এইসব খাবার একদম খেতে পারছি নারে ,তুই কি করে খাচ্ছিস ,নীরা খেতে খেতে ছোট বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে খুব কষ্ট হচ্ছে- নারে?সোমবার একটা চাকরীর খবর নেওয়ার আছে ,ইন্টারভিউ ভালোই হয়েছে ।বোন টা খুশী তে লাফিয়ে ওঠে,কি বলছিস দি চাকরি পাবি!!মা শুনে দুহাত তুলে ঠাকুর প্রনাম করে।সোমবার বেরোতে একটু দেরী হয়ে গেল, স্টেশনে ঢুকতেই দেখে ট্রেন ছাড়ছে,লেডিস কামরা অবধি যেতে পারবে না,একটু ছুটতে লাগে সামনের কামরায় উঠতে চায় একটা ছেলে হাত বাড়িয়ে টেনে তোলে সামলাতে না পেরে ছেলেটার সাথে ধাক্কা খায়।অপ্রস্তুত হয়ে যায় নীরা তারপর ধন্যবাদ জানায়,ফেরার পথে কলকাতায় বাসে আবার দেখা - ছেলেটা পরিচয় দেয় আমি উজান ,চৌরঙ্গী তে অফিস নীরা নিজের পরিচয় দেয় আর জানায় সে আজ চাকরি পেয়েছে। ধীরে ধীরে দুজনের প্রেম জমে ওঠে,নীরা এখন অফিস থেকে ফেরার সময় অনেক কেনাকাটা করে সবজি,ফল মাছ নিয়ে ফেরে মা বোনেদের মুখে ফুটেছে হাসি। একদিন উজান কে নিয়ে আসে ওদের বাড়ি ,দুটো বেডরুমের ছোট্ট বাড়ি উজানের ভালোই লাগে।দুজনেই নিজের নিজের বাড়িতে জানায় তারা বিয়ে করতে চায়।নীরার বোনেরা খুব খুশী হয় কিন্তু মা হ্যাঁ বললেও ঠিক খুশী হয় না ।নীরার সাথে দেখা করতে উজান আসে তার বাড়ি -দেখে নীরা বাড়িতে নেই,তার মা বলে একটু বোসো বাবা ও চলে আসবে ,সেই সকালে গেছে।উজান বসে থাকে তাকে মা একটু চা করে দিয়ে গল্প করতে থাকে ,বোন অন্তরা পরীক্ষার জন্য ঘরে বসে পড়ছিলো- মায়ের মনে ওরকম কু মতলব রয়েছে নিজের কান কেও বিশ্বাস করতে পারেনি সে।মা এই বিয়ে হতে দিতে রাজি নয় ,তাই বলে জানো কি বাবা ও আসলে ওর ছেলের সাথে দেখা করতে গেছে,শুনে উজান আকাশ থেকে পড়ে !!কি বললেন আপনি!!!মা বলেন ওর এক অবৈধ ছেলে আছে আবার বিয়ে করে সংসারী হবে বলে তাকে অনাথ আশ্রমে রেখেছে ।উজান আর বসেনি ঝড়ের বেগে চলে যায় অন্তরা দৌড়ে এসে মাকে বলে একি করলে মা !দি কে এতবড় মিথ্যা অপবাদ কেন দিলে ,দি র এতবড় ক্ষতি কেন করলে ,তুমি কেমন মা??? মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে সংসার চলবে কি করে।

আসলে সংসারী তো সুখ দুঃখে প্রাঙ্গণ। কখনও সুখের আবেশ আবার কখনো দুঃখের যন্ত্রণা নেই আমাদের জীবন। জীবন যন্ত্রণা গল্পটা পড়ে ভালো লাগলো।
ReplyDeleteও দুঃখিত জীবন যন্ত্রণা নয়, সংসার যন্ত্রণা গল্পটার নাম।
ReplyDelete